ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশের কাছে থাকা ৩/৪টি শটগান কেড়ে নিয়ে ভাংচুর করেন শিবিরকর্মীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বেশ কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে। এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে মতিহার থানার ওসি আবদুল মজিদকে পিটিয়ে তার পা ভেঙ্গে দেয়া হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শতাধিক টিয়ার শেল, শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছাত্রশিবির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) প্রলয় চিসিম জানান, ঘটনার পর ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ওসিসহ আহত ৩ পুলিশ কনস্টেবলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে সকালে হরতাল ও অবরোধের সমর্থনে রাজশাহীতে মহানগর ও জেলা ১৮ দলীয় জোট পৃথকভাবে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকা থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নেতৃত্বে ১৮ দল মিছিল বের করে। মিছিলটি সাহেব বাজার ও নিউমার্কেট হয়ে নগর ভবনের সামনের রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপি সভাপতি নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা ১৮ দল মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড মোড় থেকে অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করে। মিছিলটি সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট ঘুরে রাজশাহী কলেজ চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।
এ ছাড়া অবরোধ ও হরতালের কারণে রাজশাহীতে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অটোরিকশা, রিকশা, টেম্পো, মোটরসাইকেল ও সিএনজিসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।